বিলেতের রাস্তায় একা হেঁটে চলি। কনকনে উত্তরে হাওয়ায় গায়ে কাঁপন দেয়। আর আমি হারিয়ে যাই শ্যাম্বলের বাজারে। কখনও থমকে দাঁড়াই ব্রিগেটের আর্কেডে। মনে হয় পালাই এ বৈভব থেকে। প্রাণপণে আশ্রয় খুঁজতে চাই মায়ের আঁচলে। তখন বড় আপন মনে হয় হাজার যোজন দূরে হেলায় ফেলে আসা এক শহুরে প্রেমিককে। আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামে ব্রিটেনের নগরে। আউস নদী কলকলিয়ে ব্যঙ্গ হাসে। আর আমি ভিজতে থাকি একলা, এক ব্রিজে; আমার কালো কোটের আড়ালে। বৃষ্টি বদলে যায় বরফে। নগর তখন মোহিনী হয়ে ওঠে সাদা চাদরে। বিলেতের মাটি মিশতে থাকে আমার রক্তে। আমিও হাতে তুলে নিই জিনের গেলাস; আর ঠোঁট পুড়তে থাকে কড়া সিগারেটে। আমার বিলিতি প্রেমিক জড়িয়ে ধরে পরম আদরে, ঢেকে দেয় আমার ভেজা শরীর তার ভারী কোটে। চুমু খায় আমার পোড়া ঠোঁটে, রাত কেটে যায় এক অসম মিলনে। বুঝি, সেও খোঁজে একটু আদর, এই শরীরে। বরফ বদলে যায় জলে উষ্ণতা বাড়ে এ শহরে। আবার বৃষ্টি নামে ঝমঝমিয়ে; আর আমি হারিয়ে যাই নতুন বইয়ের গল্পে। বৃষ্টির পর শহর যখন থমকে যায়, এক কাপ চায়ের গরম ধোঁয়ায় হারিয়ে যায় দূরত্বের দুঃখ, ঠিক তখন বইয়ের তাকে ফিরে পাই তোমার গন্ধ; কারণ একদা ওরাও আমার প্রেমিক ছিলো।
Tag: bengali
যদি সত্যি হতে
যদি তুমি সত্যি হতে, আসতে একটা সাদা ঘোড়া ছুটিয়ে? যদি তুমি সত্যি হতে, ঢাকতে আমাকে একটা সাদা চাদরে? যদি তুমি সত্যি হতে খেলতে আমার কপালের চুলগুলো নিয়ে? হয়তো ধরতে দিতে তোমার কড়ে আঙুল। হয়তো খাইয়ে দিতে একটু বুড়ির চুল। হয়তো তুমি ভিজতে একলা ময়দানে; আর আমি দেখতাম তোমায় অপলকে। যদি তুমি সত্যি হতে আগলাতে আমাকে বলিষ্ঠ হাতে, হয়তো আমি জড়িয়ে ধরতাম তোমায় পরম আশ্লেষে। যদি তুমি সত্যি হতে সারাতে আমার সব ক্ষত, হয়তো তোমার নিশ্বাস থামতো হঠাৎ আমার চুম্বনে। কিন্তু তুমি তো সত্যি না। তুমি কি শুধুই কল্পনা? নাকি গতজন্মের প্রেমিকা? শুধু জানি মিশে আছো আমার সত্ত্বায়; রয়েছ কোনও নাম না জানা ঠিকানায়; অথবা কোনও অশরীরী উতল হাওয়ায়।
প্রত্যাশা
পরজন্ম বলে যদি কিছু থাকে,
আমি চাইব, তুমি শুধু আমার হবে;
আমি চাইব তুমি ফিরে এসো তখন।
তখন থাকবে না কোনও অতীত তোমার,
হানা দেবে না সে আমাদের মাঝে
প্রেতাত্মা হয়ে, ঠিক এ জন্মের মতন।
সে জন্মে আমরা বাঁধব আমাদের
একটা একান্ত নিজস্ব ঘর;
ঠিক যেমন এঁকেছিলাম এক বিকেলে।
সেই জন্মে শান্তিতে ঘুমবো প্রতিদিন,
তোমার বুকের উষ্ণতায়, তোমার বাহুডোরে,
তবে শুধু প্রেয়সী হয়ে নয়; স্ত্রী হয়ে।
পরজন্মে চলো, আমরা হারিয়ে যাবো কোনও জঙ্গলে
কোনও আদিম সমাজে বাঁধব সেই বাসা
যেখানে নেই কোনও সভ্যতা; পরিবার বা তৃতীয় কেউ
দেবে না আমাদের মিলনে কোনও বাধা।
আদরে অভিমানে কেটে যাবে আমাদের দিনগুলো।
হয়তো আমাদের ছায়া দেবে বুনো অসভ্যতা।
আজ তোমার ওপর অধিকার নেই আমার আর।
মাঝে মাঝে মনে হয় আদৌ কি ছিল অধিকারটা সঙ্গত?
নাকি সবই ছিল মিছে আস্ফালন,
যাতে ছিল শুধু ভয়, তোমাকে হারানোর?
এজন্ম এভাবেই কেটে যাক আমাদের,
চিরবিচ্ছেদের ব্যাথা নিয়ে বুকের মাঝে;
দূরে থেকে, কাছের মানুষ হয়েও।
এজন্ম এভাবেই যাক ভাঙ্গা হৃদয়ের ক্ষত নিয়ে;
তোমার হাতে খোদাই করা আমার নামে
আর আমার আঙ্গুলে থাকা ঝুটো আংটির মাঝে।
আর বিধাতাপুরুষ লিখতে থাকুক তার খাতায়;
একটা মিষ্টি ভালোবাসা, শুধু আমাদের তরে।