Posted in Poetry

বিলেতযাপন

বিলেতের রাস্তায় একা হেঁটে চলি।
কনকনে উত্তরে হাওয়ায় গায়ে কাঁপন দেয়।
আর আমি হারিয়ে যাই শ্যাম্বলের বাজারে।
কখনও থমকে দাঁড়াই ব্রিগেটের আর্কেডে।

মনে হয় পালাই এ বৈভব থেকে।
প্রাণপণে আশ্রয় খুঁজতে চাই মায়ের আঁচলে। 
তখন বড় আপন মনে হয় হাজার যোজন দূরে
 হেলায় ফেলে আসা এক শহুরে প্রেমিককে।

আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামে ব্রিটেনের নগরে।
আউস নদী কলকলিয়ে ব্যঙ্গ হাসে।
আর আমি ভিজতে থাকি একলা, এক ব্রিজে;
আমার কালো কোটের আড়ালে।

বৃষ্টি বদলে যায় বরফে।
নগর তখন মোহিনী হয়ে ওঠে সাদা চাদরে।
বিলেতের মাটি মিশতে থাকে আমার রক্তে।
আমিও হাতে তুলে নিই জিনের গেলাস;
আর ঠোঁট পুড়তে থাকে কড়া সিগারেটে।

আমার বিলিতি প্রেমিক জড়িয়ে ধরে পরম আদরে,
ঢেকে দেয় আমার ভেজা শরীর তার ভারী কোটে।
চুমু খায় আমার পোড়া ঠোঁটে,
রাত কেটে যায় এক অসম মিলনে। 
 বুঝি, সেও  খোঁজে একটু আদর, এই শরীরে।

বরফ বদলে যায় জলে
উষ্ণতা বাড়ে এ শহরে।
আবার বৃষ্টি নামে ঝমঝমিয়ে; 
আর আমি হারিয়ে যাই নতুন বইয়ের গল্পে। 

বৃষ্টির পর শহর যখন থমকে যায়,
এক কাপ চায়ের গরম ধোঁয়ায় হারিয়ে যায় দূরত্বের দুঃখ,
ঠিক তখন বইয়ের তাকে ফিরে পাই তোমার গন্ধ;
কারণ একদা ওরাও আমার প্রেমিক ছিলো।

One thought on “বিলেতযাপন

Leave a comment