এ কেমন নিভৃতবাস?
আমি গুমরে মরি আমার কক্ষপথে।
আমার ক্লান্ত শরীর টেনে চলে,
একটা কালো ব্যাগকে।
এ কেমন নিভৃতবাস?
রোজ রাতে আঁচড় কাটি আমার বালিশে।
আমি শূন্যমনে শুনতে থাকি
স্তাবকের নালিশ।
এ কেমন নিভৃতবাস?
আমি হাফিয়ে উঠি একলা ফ্ল্যাটে।
প্রতিদিন মায়ের ফোন হয় আরও সংক্ষিপ্ত;
আর প্রেমিকেরটা ক্রমশ অদৃশ্য।
এ নিভৃতবাস বড়ো বিসদৃশ।
আমি সুস্থ অথচ অস্পৃশ্য।
আর জিজ্ঞাসে না কেউ আমার কথা।
ভালোবেসে বলে না কেউ “কেমন আছো?”
অথচ একবিংশের পৃথিবী থাকে আপন মনে
প্রতিটি মানুষ নিজের মতো নিভৃতে, আপন কক্ষপথে।
নিজের মুঠোফোনে বন্দী এক অলীক জগতে,
রাত জাগে তারা অচেনা মানুষের চ্যাটবক্সে।
একবিংশের পৃথিবীতে প্রেমিকরা আসে না করবী নিয়ে,
একবিংশের পৃথিবীতে স্বীকৃতি আসে মোটা মাইনেতে।
একবিংশের পৃথিবীতে আছে শুধু কাঠিন্য,
একবিংশের পৃথিবী বড়ো ধূসর, বড়ো নিষ্ঠুর, বড় ব্যর্থ।
দিন ফুরিয়ে যায় ক্রমশ;
ফুরিয়ে আসে কাজ, সিনেমা, গল্পের বই।
মাথার মাঝে কথারা বুনতে থাকে জাল।
রাত বাড়ে, আমি ঘষে দিই শেষ সিগারেট।
আর আমার একলাবাস কাটতে থাকে এভাবে,
একটু স্পর্শের আশায়।